আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ
চট্টগ্রাম · চট্টগ্রাম বিভাগ
- জেলাচট্টগ্রাম
- বিভাগচট্টগ্রাম বিভাগ
- ধরনঐতিহ্যবাহী, স্মৃতিস্তম্ভ
- ভ্রমণের সেরা সময়শীত, বসন্ত, শরৎ, হেমন্ত
বিবরণ
আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ চট্টগ্রাম শহরের প্রাণকেন্দ্রে আন্দরকিল্লা পাহাড়ের উঁচুতে অবস্থিত একটি অনন্য ঐতিহাসিক ও স্থাপত্য নিদর্শন। এই মুঘল রাজকীয় মসজিদের ইতিহাস সপ্তদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে, ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দে মুঘল সুবেদার শায়েস্তা খানের আরাকান বিজয়ের স্মৃতিবহ বহন করে। শায়েস্তা খানের সেনাপতি বুজুর্গ উমেদ খান তৎকালীন মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের হাত থেকে চট্টগ্রামকে মুক্ত করে মুঘল সাম্রাজ্যভুক্ত করেন। বিজয়ের স্মারকস্বরূপ শহরের ভেতরের দুর্গ বা 'আন্দর কিল্লা'-র সর্বোচ্চ স্থানে এই ঐতিহাসিক শাহী মসজিদটি নির্মাণ করা হয়।
স্থাপত্যের দিক থেকে মূল মসজিদটি মুঘল ইসলামিক স্থাপত্যরীতির এক অপূর্ব নিদর্শন। বিশাল পাথরের স্তম্ভ, পুরো লাল ইটের দেয়াল, বিশাল গম্বুজ এবং মেহরাবে নিখুঁত ক্যালিগ্রাফির কাজ এতে প্রত্যক্ষ করা যায়। একসময় উঁচু পাহাড়ে অবস্থানের কারণে এখান থেকে কর্ণফুলী নদী এবং সমগ্র পুরোনো শহর স্পষ্টভাবে দেখা যেত। ব্রিটিশ শাসনামলে এর কিছু পরিবর্তন হলেও মূল ইসলামিক কাঠামোটি সযত্নে টিকে থাকে।
বর্তমানে আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ চট্টগ্রাম অঞ্চলের বৃহত্তম জামাতীয় কেন্দ্রগুলোর একটি। আধুনিক যুগে অতিরিক্ত মুসল্লিদের স্থান সংকুলানের জন্য মূল ঐতিহাসিক কাঠামোর চারপাশে বহু তলা আধুনিক এক্সটেনশন ও বিশাল উন্মুক্ত আঙিনা নির্মাণ করা হয়েছে। তবে এর মূল প্রার্থনাকক্ষটি এখনো অত্যন্ত যত্নের সাথে মুঘল আমলের ঐতিহ্য বহন করছে। বিশেষ করে রমজান মাস, শবে কদর এবং ঈদের দিনে এখানে লক্ষাধিক মানুষের বিশাল সমাগম ঘটে।
ঐতিহাসিক বা সাধারণ দর্শনার্থী হিসেবে আন্দরকিল্লা সফর অত্যন্ত চমকপ্রদ। নিচে পুরোনো চট্টগ্রামের কোলাহলপূর্ণ ক্যালিগ্রাফি ও বইয়ের বাজার পেরিয়ে ধাপে ধাপে উঁচু আঙিনায় উঠলেই শহরের ভেতর এক শান্ত প্রশান্তিময় পরিবেশ পাওয়া যায়। মুঘল পাথরের দেয়াল এবং পুরো চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পটভূমি অনুধাবন করার জন্য আন্দরকিল্লা মসজিদ একটি অবশ্য দর্শনীয় স্থান।
ভ্রমণের সেরা সময়
- শীত. নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির শুষ্ক ও ঠান্ডা আবহাওয়া পুরোনো চট্টগ্রাম শহর হেঁটে ঘুরে দেখার এবং আন্দরকিল্লার উঁচু সিঁড়ি বায়বীয়ভাবে অতিক্রম করার জন্য সেরা সময়।
- শরৎ. অক্টোবর থেকে নভেম্বরের পরিষ্কার আকাশ ও মনোরম পরিবেশ নীল আকাশের নিচে প্রাচীন মুঘল গম্বুজের ছবি তোলার দারুণ সুযোগ দেয়।
- হেমন্ত. বিকেলের হালকা ঠান্ডা বাতাসে আন্দরকিল্লা এলাকার ইতিহাস ও পাহাড়ি পরিবেশ দারুণ উপভোগ্য হয়ে ওঠে।
- বসন্ত. ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাসে গ্রীষ্মের উত্তাপ শুরু হওয়ার আগে আরামদায়ক তাপমাত্রায় শহরের ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলো দর্শন করার আদর্শ সময়।
বিশেষত্ব
- ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দে বিজয়ের স্মারক হিসেবে নির্মিত ঐতিহাসিক মুঘল রাজকীয় কেল্লা মসজিদ
- পুরোনো চট্টগ্রাম শহরের বুকে পাহাড়ি টিলার ওপর অপূর্ব উচ্চতা ও অবস্থান
- সপ্তদশ শতাব্দীর প্রাচীন পাথর, পোড়ামাটি ও ক্যালিগ্রাফি খোদাই করা অনন্য মুঘল স্থাপত্য
সতর্কতা
- যেহেতু এটি একটি সক্রিয় উপাসনালয়, তাই পরিমার্জিত পোশাক পরিধান করুন এবং ধর্মীয় শালীনতা বজায় রাখুন।
- মসজিদের নির্দিষ্ট অজুখানা ও মূল প্রার্থনাকক্ষে প্রবেশের আগে জুতো খুলে নির্দিষ্ট জুতোর তাকে রাখুন।
- নামাজের সময় মূল প্রার্থনাকক্ষের ভেতরে ছবি তোলা বা ভিডিও করা থেকে বিরত থাকুন।
ভ্রমণের আগে
খরচ ও যোগাযোগের তথ্য সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই ভ্রমণের আগে জেনে নিন। কোনো সেবাদাতার সাথে আর্থিক লেনদেন বা অন্য কোনো বিষয়ের জন্য দৃষ্টি দায়ী থাকবে না।
আবহাওয়া
২৮°
পরিষ্কার আকাশ
অনুভূত হচ্ছে ৩২°
- আর্দ্রতা
- ৭৩%
- বাতাস
- ৬.৩ কিমি/ঘণ্টা
৭ দিনের পূর্বাভাস
- আজ
২৪°৩১°
- রবি
২৪°৩২°
- সোম
২৪°৩১°
- মঙ্গল
২২°২৮°
- বুধ
২০°২৭°
- বৃহস্পতি
২০°২৭°
- শুক্র
২২°২৯°
হালনাগাদ ৭ নভে, ৯:৩০ PM
মানচিত্র















ছবি
কাছাকাছি স্থান
চেরাগী পাহাড়
চট্টগ্রাম · ঐতিহ্যবাহী · ৩৮০ মি
লালদিঘি পার্ক ও ময়দান
চট্টগ্রাম · ঐতিহ্যবাহী · ৪১৭ মি
নজরুল স্কয়ার (ডিসি হিল)
চট্টগ্রাম · ঐতিহ্যবাহী · ৪৭২ মি
চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রি
চট্টগ্রাম · ঐতিহ্যবাহী · ১.৯ কিমি
বাটালি হিল
চট্টগ্রাম · পাহাড়-পর্বত · ২.১ কিমি
জাতীয় নৃতাত্ত্বিক জাদুঘর
চট্টগ্রাম · ঐতিহ্যবাহী · ২.৭ কিমি