মূল অংশে যান
  • জেলাঠাকুরগাঁও
  • বিভাগরংপুর বিভাগ
  • ধরনঐতিহ্যবাহী, স্মৃতিস্তম্ভ
  • ভ্রমণের সেরা সময়শীত, বসন্ত, শরৎ

বিবরণ

বালিয়া মসজিদ, যা স্থানীয়ভাবে ‘বালিয়া জীন মসজিদ’ নামে অত্যন্ত সুপরিচিত, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত এক শতবর্ষী ও স্থাপত্যশৈলীতে অসাধারণ ঐতিহাসিক মসজিদ। জেলা শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক নিদর্শনটির নির্মাণকাজ বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে, আনুমানিক ১৯১০ সালে স্থানীয় জমিদার মেহের বখশ চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী গুলমতি চৌধুরীর উদ্যোগে শুরু হয়। মোঘল ও পারস্য স্থাপত্যশৈলীর দৃষ্টিনন্দন সংমিশ্রণে তৈরি এই মসজিদের দেওয়ালে পোড়ামাটির নকশা, ফুল-পাতার চমৎকার টেরাকোটা রিলিফ এবং জ্যামিতিক কারুকাজ লক্ষ্য করা যায়। উঁচুতে নির্মিত এই মসজিদটির চার কোণে সুউচ্চ মিনার এবং ছাদজুড়ে গম্বুজ স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ১৯১০ সালে জমিদারের আকস্মিক মৃত্যু এবং পরবর্তী নানা প্রতিকূলতার কারণে মসজিদের গম্বুজ নির্মাণ কাজ অসমাপ্ত থেকে যায়। বছরের পর বছর ছাদহীন অবস্থায় অলৌকিকভাবে টিকে থাকা এই কাঠামো নিয়ে স্থানীয় লোকমুখে রটে যায় যে, জিনেরা এক রাতের মধ্যে এক অলৌকিক শক্তিতে এই মসজিদ নির্মাণ করেছিল এবং ভোর হওয়ার কারণে গম্বুজ বানানোর আগেই কাজ ফেলে চলে যায়। সেখান থেকেই লোকমুখে এটি 'জীন মসজিদ' নামে পরিচিতি লাভ করে। দীর্ঘ ১০০ বছর ধরে পরিত্যক্ত ও ছাদহীন থাকার পর, ২০১০ সালে জমিদার পরিবারের বংশধর এবং প্রত্নতত্ত্ব বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় মসজিদটির ঐতিহাসিক পুনঃসংস্কার কাজ শুরু হয়। চুন, সুরকি ও ঐতিহ্যবাহী পোড়ামাটির ইট ব্যবহার করে শতবর্ষ পর এর নকশানুযায়ী গম্বুজ ও মূল অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে এটি শুধু একটি প্রত্নতাত্ত্বিক দর্শনীয় স্থানই নয়, বরং এলাকাবাসীর নিয়মিত ইবাদত-বন্দেগির জন্য উন্মুক্ত একটি সচল জামে মসজিদ।

ভ্রমণের সেরা সময়

বিশেষত্ব

  • মোঘল ও পারস্য স্থাপত্যের অপূর্ব সংমিশ্রণে পোড়ামাটির ফলক ও টেরাকোটা কারুকাজে তৈরি শতবর্ষী প্রাচীন মসজিদ
  • স্থানীয় লোককথা ও 'জীনদের তৈরি মসজিদ' নামে পরিচিতির পেছনে থাকা ১০০ বছরের চমৎকার ঐতিহাসিক রহস্য
  • দীর্ঘ ১০০ বছর ছাদহীন পরিত্যক্ত থাকার পর চুন-সুরকির সনাতন পদ্ধতিতে গম্বুজসহ মূল অবকাঠামোর সফল পুনঃসংস্কারের অনন্য ইতিহাস
  • উঁচু বেদির ওপর অবস্থিত নান্দনিক প্রবেশদ্বার, তোরণ এবং চমৎকার কারুকার্যখচিত ছোট-বড় মিনার
  • উত্তরবঙ্গের শান্ত-স্নিগ্ধ গ্রাম্য সবুজ প্রকৃতির মাঝে অবস্থিত চমৎকার এক ঐতিহাসিক স্থাপত্য দর্শন

সতর্কতা

  • যেহেতু এটি একটি সক্রিয় জামে মসজিদ, তাই শালীন পোশাক পরিধান করুন এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা রক্ষা করুন।
  • ঐতিহাসিক দেওয়াল, টেরাকোটার সূক্ষ্ম নকশা বা প্রাচীন মিনারে স্পর্শ করা, আঁচড় কাটা বা হেলান দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
  • নামাজের সময় ভেতরে উচ্চশব্দ করা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ছবি/ভিডিও তোলা থেকে বিরত থাকুন।
  • মসজিদ প্রাঙ্গণ ও চারপাশের মুক্ত পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন এবং যত্রতত্র ময়লা বা প্লাস্টিক ফেলবেন না।

ভ্রমণের আগে

খরচ ও যোগাযোগের তথ্য সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই ভ্রমণের আগে জেনে নিন। কোনো সেবাদাতার সাথে আর্থিক লেনদেন বা অন্য কোনো বিষয়ের জন্য দৃষ্টি দায়ী থাকবে না।

আবহাওয়া

২২°

পরিষ্কার আকাশ

অনুভূত হচ্ছে ২৫°

আর্দ্রতা
৮৪%
বাতাস
৪.৪ কিমি/ঘণ্টা

৭ দিনের পূর্বাভাস

  • আজ২০°২৯°
  • রবি২০°৩০°
  • সোম২০°৩১°
  • মঙ্গল২১°২৯°
  • বুধ২০°২৮°
  • বৃহস্পতি১৮°২৮°
  • শুক্র১৯°২৮°

হালনাগাদ ৭ নভে, ১০:১০ PM

মানচিত্র

ছবি

কাছাকাছি স্থান

কোথায় থাকবেন

এখানকার থাকার জায়গা এখনও যোগ করা হয়নি।

আরও ঘুরে দেখুন