অমিয়াখুম জলপ্রপাত
বান্দরবন · চট্টগ্রাম বিভাগ
- জেলাবান্দরবন
- বিভাগচট্টগ্রাম বিভাগ
- ধরনপাহাড়-পর্বত, বন-জঙ্গল, ঝর্ণা
- ভ্রমণের সেরা সময়শীত, শরৎ
বিবরণ
অমিয়াখুম জলপ্রপাতকে বাংলাদেশের অন্যতম দুর্গম, আদিম এবং সবচেয়ে সুন্দর জলপ্রপাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার রেমাক্রি ইউনিয়নে অবস্থিত। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের কাছাকাছি পার্বত্য চট্টগ্রামের রুক্ষ ও গভীর পাহাড়ের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা এই ঝর্ণাটি সাঙ্গু নদীর একটি শাখা খুমের পানি তীব্র গতিতে বিশাল সব পাথুরে চাই আর খাড়া গিরিখাতের মধ্য দিয়ে আছড়ে পড়ার ফলে সৃষ্টি হয়েছে। এই জলপ্রপাতের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এর চওড়া, ধাপে ধাপে নেমে যাওয়া পাথুরে গঠন এবং চারপাশের ঘন চিরহরিৎ বন ও পাথুরে ক্যানিয়নে জলপ্রপাতের পানির অবিরাম গর্জন। অমিয়াখুম পৌঁছানো অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং এবং রোমাঞ্চকর এক অভিযান; এর জন্য পর্যটকদের প্রথমে থানচি থেকে নদীপথে রেমাক্রি হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রুক্ষ পাহাড়ি পথ পাড়ি দিতে হয়, পার হতে হয় চরম খাড়া ও ঝুঁকিপূর্ণ 'দেবতা পাহাড়'। এছাড়া বিশাল সব পাথুরে পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ পানির নদী ও ক্যানিয়নে ঐতিহ্যবাহী বাঁশের ভেলায় চড়ে ভেলা ভ্রমণের (Rafting) অভিজ্ঞতাও নিতে হয়। এই অঞ্চলটি আধুনিক শহুরে জীবন এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন, যেখানে মারমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মতো পাহাড়ী আদিবাসীরা বাস করে। চরম রোমাঞ্চপ্রিয় ট্র্যাকার ও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে অমিয়াখুম হলো ধৈর্য ও শারীরিক সক্ষমতার এক কঠিন পরীক্ষা, যার শেষ গন্তব্যে মেলে সবুজাভ নীল পানি এবং আদিম প্রকৃতির এক অপার্থিব রূপ।
ভ্রমণের সেরা সময়
বিশেষত্ব
- বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর ও পাথুরে গিরিখাতে ঘেরা আদিম প্রকৃতির এক অপরূপ ধাপে ধাপে সাজানো জলপ্রপাত
- সবুজাভ ও স্ফটিকের মতো পরিষ্কার পানির বুক চিরে বিশাল পাথুরে ক্যানিয়নের মধ্য দিয়ে রোমাঞ্চকর বাঁশের ভেলা ভ্রমণের সুযোগ
- কিংবদন্তিতুল্য খাড়া ও অ্যাডভেঞ্চারে ঠাসা 'দেবতা পাহাড়' ট্র্যাকিং করে নিচে নামার অভাবনীয় রোমাঞ্চ
- পাহাড়ের গহীন উপজাতি পাড়ায় তাদের ঐতিহ্যবাহী বাঁশ ও কাঠের মাচাং ঘরে থেকে আদিবাসী জীবনযাত্রার অনন্য অভিজ্ঞতা
- শহুরে জীবনের কোলাহল ও মোবাইল নেটওয়ার্ক থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থেকে প্রকৃতির নিস্তব্ধতা উপভোগের সেরা স্থান
সতর্কতা
- বর্ষাকালের তীব্র বর্ষণে পাহাড়ি পথ অত্যন্ত পিচ্ছিল ও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে এবং খুমের পানিতে আকস্মিক পাহাড়ি ঢল (Flash Flood) নামার ঝুঁকি থাকায় বর্ষাকালে যাওয়া সম্পূর্ণ পরিহার করুন।
- খাড়া ও বিপজ্জনক 'দেবতা পাহাড়' নামার জন্য আপনার চমৎকার শারীরিক সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন; গ্রিপযুক্ত ভালো ট্র্যাকিং জুতো ব্যবহার করুন।
- গভীর পাহাড় ও বনের গোলকধাঁধায় পথ চেনা এবং নিরাপত্তার স্বার্থে থানচি থেকে একজন নিবন্ধিত পেশাদার স্থানীয় গাইড নেওয়া বাধ্যতামূলক।
- ঝর্ণার আশেপাশে কোনো মোবাইল নেটওয়ার্ক বা জরুরি চিকিৎসা সুবিধা নেই, তাই আপনার সাথে প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং একটি প্রাথমিক চিকিৎসা কিট (First-Aid) অবশ্যই রাখুন।
ভ্রমণের আগে
খরচ ও যোগাযোগের তথ্য সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই ভ্রমণের আগে জেনে নিন। কোনো সেবাদাতার সাথে আর্থিক লেনদেন বা অন্য কোনো বিষয়ের জন্য দৃষ্টি দায়ী থাকবে না।
আবহাওয়া
২২°
পরিষ্কার আকাশ
অনুভূত হচ্ছে ২৫°
- আর্দ্রতা
- ৮৭%
- বাতাস
- ১.৫ কিমি/ঘণ্টা
৭ দিনের পূর্বাভাস
- আজ
১৯°২৮°
- রবি
২০°২৮°
- সোম
২০°২৬°
- মঙ্গল
১৮°২৪°
- বুধ
১৭°২৪°
- বৃহস্পতি
১৬°২৪°
- শুক্র
১৬°২৫°
হালনাগাদ ৭ নভে, ৯:১০ PM
মানচিত্র















ছবি
কাছাকাছি স্থান
সাত ভাই খুম
বান্দরবন · পাহাড়-পর্বত · ৬৬৬ মি
নাফাকুম
বান্দরবন · পাহাড়-পর্বত · ৬.৪ কিমি
শৈনগং ঝরনা
বান্দরবন · ঝর্ণা · ৬.৭ কিমি
লাংলোক ঝরনা
বান্দরবন · ঝর্ণা · ১০.১ কিমি
কুমারী ঝরনা
বান্দরবন · ঝর্ণা · ১০.২ কিমি
তমা তুঙ্গী পর্যটন কমপ্লেক্স
বান্দরবন · পাহাড়-পর্বত · ১০.৪ কিমি