দেবতাখুম
বান্দরবন · চট্টগ্রাম বিভাগ
- জেলাবান্দরবন
- বিভাগচট্টগ্রাম বিভাগ
- ধরনপাহাড়-পর্বত, দ্বীপ
- ভ্রমণের সেরা সময়শীত, বসন্ত, শরৎ
বিবরণ
দেবতাখুমকে বাংলাদেশের অন্যতম আদিম, রোমাঞ্চকর ও দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক গিরিখাত বা ক্যানিয়ন হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলায় অবস্থিত। পার্বত্য চট্টগ্রামের গহীন অরণ্য ও রুক্ষ পাহাড়ের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা এই খুমটি মূলত শিলনপি ঝিরির প্রাকৃতিকভাবে বয়ে চলা পানির স্রোতে বিশাল পাথুরে পাহাড় ক্ষয় হয়ে সৃষ্টি হয়েছে। এই ক্যানিয়নের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এর দুই পাশে প্রায় ৫০ থেকে ৭০ ফুট উঁচুতে খাড়া হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দানবীয় পাথুরে দেয়াল, যার মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে গভীর ও সবুজাভ নীল পানির এক শান্ত সংকীর্ণ স্রোতধারা। গিরিখাতের ভেতরের কিছু অংশ এতটাই সংকীর্ণ যে সেখানে দিনের বেলাতেও সূর্যের আলো খুব একটা পৌঁছায় না, যা পুরো পরিবেশ জুড়ে এক অপার্থিব, ছায়াঘেরা ও গম্ভীর নিস্তব্ধতা তৈরি করে। দেবতাখুমের রোমাঞ্চকর যাত্রাটি কয়েক ধাপে বিভক্ত; পর্যটকদের প্রথমে রোয়াংছড়ি বা কচ্ছপতলি হয়ে পাহাড়ী ট্রেইল ধরে বিখ্যাত 'গরিলা পাহাড়' এবং স্বচ্ছ পানির 'অনন্তছড়ি' ঝিরিপথ পায়ে হেঁটে পাড়ি দিতে হয়। দেবতাখুমের মূল আকর্ষণ হলো ক্যানিয়নের প্রবেশমুখ থেকে ঐতিহ্যবাহী বাঁশের ভেলায় চড়ে আদিম পাথুরে দেয়ালের বুক চিরে ভেলা চালিয়ে (Rafting) ভেতরের রহস্যময় রূপ দর্শন করা। স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের মাঝে এই স্থানটি নিয়ে গভীর বিশ্বাস রয়েছে; তাদের মতে এই গভীর জলাধারটি পাহাড়ী দেবতাদের এক পবিত্র বাসস্থান। চরম অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী, ট্র্যাকার এবং প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য দেবতাখুম আদিম প্রকৃতির এক জাদুকরী স্বর্গরাজ্য।
ভ্রমণের সেরা সময়
বিশেষত্ব
- দুই পাশে প্রায় ৭০ ফুট উঁচু খাড়া পাথুরে দেয়াল দিয়ে ঘেরা বাংলাদেশের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন গিরিখাত বা ক্যানিয়ন
- বিশাল ও প্রাচীন পাথুরে দেয়ালের মাঝখান দিয়ে সবুজাভ নীল পানির ওপর রোমাঞ্চকর বাঁশের ভেলা ভ্রমণের অভাবনীয় অভিজ্ঞতা
- গিরিখাতের গভীর অংশে সূর্যের আলো না পৌঁছানোর ফলে সৃষ্ট এক ছায়াঘেরা, শান্ত ও রহস্যময় মায়াবী পরিবেশ
- বিখ্যাত 'গরিলা পাহাড়' এবং চমৎকার ঝিরিপথ 'অনন্তছড়ি' ট্রেকিং করে গন্তব্যে পৌঁছানোর দারুণ রোমাঞ্চ
- মোবাইল নেটওয়ার্ক ও শহুরে কোলাহল থেকে সম্পূর্ণ দূরে প্রাকৃতিকভাবে সংরক্ষিত আদিম অরণ্যের নিস্তব্ধতা উপভোগ
সতর্কতা
- খুমের পানি অত্যন্ত গভীর এবং প্রচণ্ড ঠাণ্ডা হওয়ায় বাঁশের ভেলায় ওঠার পূর্বে মানসম্মত লাইফ জ্যাকেট পরিধান করা বাধ্যতামূলক।
- বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে সংকীর্ণ গিরিখাতের ভেতরে মারাত্মক পাহাড়ি ঢল (Flash Flood) নামার ঝুঁকি থাকায় বর্ষার ভরা মৌসুমে এখানে যাওয়া সম্পূর্ণ পরিহার করুন।
- নিরাপত্তা ও সঠিক পথের নির্দেশনার জন্য কচ্ছপতলি বা স্থানীয় সেনা চেকপোস্ট থেকে একজন নিবন্ধিত গাইড নেওয়া বাধ্যতামূলক।
- গিরিখাতের ভেতরে চিৎকার করা বা উচ্চশব্দে প্রতিধ্বনি করা থেকে বিরত থাকুন, কারণ এটি স্থানীয় আদিবাসী ঐতিহ্য ও শান্ত বন্য পরিবেশের পরিপন্থী।
ভ্রমণের আগে
খরচ ও যোগাযোগের তথ্য সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই ভ্রমণের আগে জেনে নিন। কোনো সেবাদাতার সাথে আর্থিক লেনদেন বা অন্য কোনো বিষয়ের জন্য দৃষ্টি দায়ী থাকবে না।
আবহাওয়া
২২°
পরিষ্কার আকাশ
অনুভূত হচ্ছে ২৫°
- আর্দ্রতা
- ৮৭%
- বাতাস
- ১.৫ কিমি/ঘণ্টা
৭ দিনের পূর্বাভাস
- আজ
১৯°২৮°
- রবি
২০°২৮°
- সোম
২০°২৬°
- মঙ্গল
১৮°২৪°
- বুধ
১৭°২৪°
- বৃহস্পতি
১৬°২৪°
- শুক্র
১৬°২৫°
হালনাগাদ ৭ নভে, ৯:১০ PM
মানচিত্র















ছবি
কাছাকাছি স্থান
তিনাফ সাইতার জলপ্রপাত
বান্দরবন · পাহাড়-পর্বত · ১৫ কিমি
মিলনছড়ি ভিউ পয়েন্ট
বান্দরবন · পাহাড়-পর্বত · ১৭.১ কিমি
নীলাচল পর্যটন কেন্দ্র
বান্দরবন · পাহাড়-পর্বত · ১৮ কিমি
স্বর্ণ মন্দির (বুদ্ধ ধাতু জাদী)
বান্দরবন · পাহাড়-পর্বত · ১৮ কিমি
শৈলপ্রপাত ঝরনা
বান্দরবন · ঝর্ণা · ১৮.৬ কিমি
মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স
বান্দরবন · লেক · ১৯.৭ কিমি