মূল অংশে যান
  • জেলাকক্সবাজার
  • বিভাগচট্টগ্রাম বিভাগ
  • ধরনসী বীচ, দ্বীপ
  • ভ্রমণের সেরা সময়শীত, বসন্ত, শরৎ, হেমন্ত

বিবরণ

সোনাদিয়া দ্বীপ কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলায় অবস্থিত সাগর বক্ষে জেগে ওঠা এক অপরূপ, আদিম এবং শান্ত উপদ্বীপ। প্রায় ৯ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই দ্বীপটি এর অনন্য উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক বাসস্থানের জন্য একটি সরকারিভাবে ঘোষিত 'প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা' (ECA)। দ্বীপটি প্রাকৃতিকভাবে পূর্ব ও পশ্চিম—এই দুই ভাগে বিভক্ত এবং এটি মূলত এর অসম্ভব নীরবতা, কোলাহলমুক্ত নির্জন বালুকাময় সৈকত এবং ঝাঁকে ঝাঁকে লাল কাঁকড়ার অবাধ বিচরণের জন্য সুপরিচিত, যা বিচের বালুকে এক লাল গালিচায় রূপান্তর করে। দ্বীপের পশ্চিম অংশটি সরাসরি বঙ্গোপসাগরের বিশাল ও গর্জনশীল ঢেউয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে, যেখানে আধুনিক বাণিজ্যিক পর্যটনের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। সোনাদিয়া দ্বীপের চারপাশে রয়েছে বিস্তৃত কেওড়া ও শ্বাসমূলীয় ম্যানগ্রোভ বন, সামুদ্রিক বালিয়াড়ি এবং কাদা চর, যা সাইবেরিয়া থেকে আসা পরিযায়ী পাখি এবং বিপন্ন অলিভ রিডলি সামুদ্রিক কচ্ছপের প্রধান প্রজনন ও ডিম পাড়ার স্থান হিসেবে কাজ করে। এই দ্বীপে স্থায়ী জনসংখ্যা অত্যন্ত সীমিত, যাদের মূল জীবিকা সাগরে ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরা এবং শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ করা। কক্সবাজারের কস্তুরী ঘাট বা মহেশখালী থেকে স্পীডবোট বা ইঞ্জিন নৌকায় চড়ে এই দ্বীপে পৌঁছানো যায়। শহুরে সভ্যতা থেকে দূরে রাতে তাবু খাটিয়ে ক্যাম্পিং করা এবং প্রকৃতির একদম খাঁটি রূপ দেখার জন্য সোনাদিয়া ব্যাকপ্যাকার ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য এক স্বর্গরাজ্য।

ভ্রমণের সেরা সময়

বিশেষত্ব

  • বাণিজ্যিক কোলাহলমুক্ত সম্পূর্ণ কুমারী ও নির্জন এক দ্বীপ, যা আদিম সৈকত ও দিগন্তজোড়া সাগরের মেলবন্ধন
  • নির্জন সৈকতের বুকে লাখো লাল কাঁকড়ার একসাথে ছুটে চলার এক অপূর্ব ও নয়নজুড়ানো প্রাকৃতিক দৃশ্য
  • বিপন্ন অলিভ রিডলি কচ্ছপের ডিম পাড়ার প্রধান প্রাকৃতিক ক্ষেত্র এবং শীতকালীন পরিযায়ী পাখিদের অভয়ারণ্য
  • দ্বীপে বসবাসকারী সাধারণ জেলেদের সাগরে মাছ ধরা ও ঐতিহ্যবাহী শুঁটকি মহাল তৈরির জীবনযাত্রার সরাসরি অভিজ্ঞতা
  • ক্যাম্পিং প্রেমীদের জন্য কোলাহলহীন দ্বীপে তাবু খাটিয়ে চাঁদের আলো এবং তারকারাজি দেখার সেরা অফবিট গন্তব্য

সতর্কতা

  • সোনাদিয়া একটি প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হওয়ায় বন্যপ্রাণীদের বিরক্ত করা, বালিয়াড়ি ধ্বংস করা কিংবা কচ্ছপের প্রজননস্থলের কাছে বড় অগ্নিকুণ্ড (Campfire) তৈরি করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।
  • দ্বীপে কোনো আধুনিক হোটেল বা বাণিজ্যিক থাকার ব্যবস্থা নেই; তাই রাতে ক্যাম্পিং করতে চাইলে স্থানীয় প্রশাসন ও ক্যাম্পিং টিমের অনুমতিসহ পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে যান।
  • সাগর চ্যানেল পার হওয়ার আগে আবহাওয়া এবং জোয়ার-ভাটার পূর্বাভাসের দিকে কড়া নজর রাখুন, কারণ ঝড়ো বাতাসে ছোট নৌকা বা ট্রলারের যাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
  • দ্বীপে কোনো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নেই, তাই আপনার ব্যবহৃত প্লাস্টিক বোতল বা ময়লা আবর্জনা দ্বীপে না ফেলে অবশ্যই মূল ভূখণ্ডে ফেরত নিয়ে আসুন।

ভ্রমণের আগে

খরচ ও যোগাযোগের তথ্য সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই ভ্রমণের আগে জেনে নিন। কোনো সেবাদাতার সাথে আর্থিক লেনদেন বা অন্য কোনো বিষয়ের জন্য দৃষ্টি দায়ী থাকবে না।

আবহাওয়া

২৬°

পরিষ্কার আকাশ

অনুভূত হচ্ছে ৩১°

আর্দ্রতা
৭৪%
বাতাস
৩.১ কিমি/ঘণ্টা

৭ দিনের পূর্বাভাস

  • আজ২৪°৩২°
  • রবি২৪°৩১°
  • সোম২৩°২৯°
  • মঙ্গল২২°২৭°
  • বুধ২১°২৭°
  • বৃহস্পতি২০°২৭°
  • শুক্র২১°২৯°

হালনাগাদ ৭ নভে, ৯:১০ PM

মানচিত্র

ছবি

কাছাকাছি স্থান

কোথায় থাকবেন

আরও ঘুরে দেখুন