মূল অংশে যান
  • জেলাকুমিল্লা
  • বিভাগচট্টগ্রাম বিভাগ
  • ধরনঐতিহ্যবাহী, স্মৃতিস্তম্ভ
  • ভ্রমণের সেরা সময়শীত, বসন্ত, শরৎ, হেমন্ত

বিবরণ

শালবন বিহার বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান, সুবিন্যস্ত এবং ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন বৌদ্ধ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, যা কুমিল্লা জেলার ময়নামতি-লালমাই পাহাড় শ্রেণীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। সপ্তম শতাব্দীর শেষভাগ থেকে অষ্টম শতাব্দীর প্রথমভাগে দেব রাজবংশের চতুর্থ রাজা শ্রী ভবদেব এই ঐতিহাসিক বিহারটি নির্মাণ করেন, যার আদি নাম ছিল 'ভবদেব মহাবিহার'। প্রাচীনকালে এই প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকার চারপাশে প্রচুর শালগাছের গভীর অরণ্য ছিল বলে কালক্রমে এটি সাধারণ মানুষের কাছে 'শালবন বিহার' নামে পরিচিতি লাভ করে। স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে সম্পূর্ণ পোড়ামাটির ইট দিয়ে নির্মিত এই মহাবিহারটি বিশাল চতুষ্কোণ আকৃতির, যার প্রতিটি বাহুর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬৭ মিটার। বিহারের চারপাশের দেয়াল ঘেঁষে সন্ন্যাসীদের ধর্মীয় শিক্ষা, ধ্যান এবং বসবাসের জন্য মোট ১১৫টি কক্ষ বা ভিক্ষুকক্ষ সুষমভাবে সাজানো রয়েছে, যা একটি বিশাল কেন্দ্রীয় উঠানকে পরিবেষ্টিত করে রেখেছে। এই উঠানের মাঝখানেই রয়েছে একটি চমৎকার ক্রুশাকার (Cruciform) কেন্দ্রীয় মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ। বিভিন্ন সময়ের প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যের ফলে এখান থেকে প্রচুর প্রাচীন স্মারক আবিষ্কৃত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে পৌরাণিক দেব-দেবী ও জীবজন্তুর প্রতিকৃতি খচিত পোড়ামাটির ফলক (Terracotta), রাজকীয় সিলমোহর, সোনা ও রূপার মুদ্রা এবং ব্রোঞ্জের তৈরি চমৎকার বুদ্ধমূর্তি। বর্তমানে সুন্দর বাগান দিয়ে ঘেরা এই সংরক্ষিত ঐতিহাসিক স্থানটি এবং এর পাশেই অবস্থিত ময়নামতি জাদুঘর প্রাচীন বাংলার গৌরবময় সংস্কৃতি, স্থাপত্য ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের এক অনন্য সাক্ষী হিসেবে দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।

ভ্রমণের সেরা সময়

বিশেষত্ব

  • সপ্তম শতাব্দীতে নির্মিত একটি বিশাল চতুষ্কোণ বৌদ্ধ বিহার, যেখানে ভিক্ষুদের থাকার জন্য ১১৫টি কক্ষ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান
  • বিহারের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত অনন্য ক্রুশাকার কেন্দ্রীয় মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ, যা প্রাচীন বাংলার স্থাপত্য পরিকল্পনার এক অনন্য নিদর্শন
  • সংলগ্ন ময়নামতি জাদুঘর যেখানে খননকার্যের মাধ্যমে পাওয়া প্রাচীন স্বর্ণমুদ্রা, ব্রোঞ্জের বুদ্ধমূর্তি এবং পোড়ামাটির ফলকের বিশাল সংগ্রহ রয়েছে
  • লালমাই-ময়নামতি পাহাড়ের মনোরম লাল মাটির প্রাকৃতিক ও শান্ত পরিবেশের মাঝে অবস্থিত
  • কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এবং শহরের মূল কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় শিক্ষা সফর ও পারিবারিক ভ্রমণের জন্য একটি আদর্শ ঐতিহাসিক স্থান

সতর্কতা

  • বিহারের প্রাচীন ও ভঙ্গুর পোড়ামাটির ইটের দেয়াল বা কাঠামোর ওপর ওঠা, বসা কিংবা পা দেওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন, এতে ঐতিহাসিক নিদর্শন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
  • সংরক্ষিত প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ ও পাথরের খোদাই করা নকশা স্পর্শ করা বা সেগুলোতে কোনো কিছু লেখা প্রত্নতাত্ত্বিক আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।
  • শালবন বিহারের উন্মুক্ত চত্বরে ছবি তোলার অনুমতি থাকলেও সংলগ্ন ময়নামতি জাদুঘরের ভেতরের গ্যালারিতে ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
  • নিদর্শনের চারপাশের সৌন্দর্য ধরে রাখতে নির্দিষ্ট দর্শনার্থী চলাচলের পথ ব্যবহার করুন এবং সংরক্ষিত ঘাসের লনের ওপর দিয়ে হাঁটা এড়িয়ে চলুন।

ভ্রমণের আগে

খরচ ও যোগাযোগের তথ্য সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই ভ্রমণের আগে জেনে নিন। কোনো সেবাদাতার সাথে আর্থিক লেনদেন বা অন্য কোনো বিষয়ের জন্য দৃষ্টি দায়ী থাকবে না।

আবহাওয়া

২৪°

পরিষ্কার আকাশ

অনুভূত হচ্ছে ২৭°

আর্দ্রতা
৮৪%
বাতাস
৫.৬ কিমি/ঘণ্টা

৭ দিনের পূর্বাভাস

  • আজ২১°৩০°
  • রবি২২°৩১°
  • সোম২১°৩১°
  • মঙ্গল২১°২৯°
  • বুধ২০°২৮°
  • বৃহস্পতি১৯°২৮°
  • শুক্র২০°২৮°

হালনাগাদ ৭ নভে, ১০:১০ PM

মানচিত্র

ছবি

কাছাকাছি স্থান

কোথায় থাকবেন

আরও ঘুরে দেখুন