কালুরঘাট সেতু
চট্টগ্রাম · চট্টগ্রাম বিভাগ
- জেলাচট্টগ্রাম
- বিভাগচট্টগ্রাম বিভাগ
- ধরনঐতিহ্যবাহী, নদীর-পাড়, স্মৃতিস্তম্ভ
- ভ্রমণের সেরা সময়শীত, বসন্ত, শরৎ, হেমন্ত
বিবরণ
কালুরঘাট সেতু চট্টগ্রাম শহরে কর্ণফুলী নদীর ওপর নির্মিত এক ঐতিহাসিক ইস্পাতের পাতাতনবিশিষ্ট ট্রাস রেল ও সড়ক সেতু। ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯৩০ সালে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কর্তৃক মূলতঃ দোহাজারী পর্যন্ত সামরিক মালামাল ও কাঠ পরিবহনের রেল সেতু হিসেবে এটি নির্মিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৬২ সালে সেতুটিকে সামান্য রূপান্তর করে একই সাথে ট্রেন ও এক লেনের যানবাহন চলাচলের উপযোগী 'রোড-কাম-রেল' সেতুতে পরিণত করা হয়। ২৩৮ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটির ভিক্টোরিয়ান লোহার ফ্রেমের লোকোমোটিভ ডিজাইন আজও বাংলাদেশে প্রকৌশল ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
স্থাপত্যের ইতিহাস ছাড়িয়ে কালুরঘাট সেতু বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সাথে গভীরভাবে যুক্ত। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের শেষভাগে এই সেতুর নিকটবর্তী কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে জাতির উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে প্রতিহত করতে সেতু এলাকায় বাঙালি প্রতিরোধ যোদ্ধারা বীরত্বপূর্ণ সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
প্রকৌশলগত দিক থেকে সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন চলাচলের জন্য বিশেষ সুবিধা রয়েছে। একক লেনের পথ হওয়ায় একদিকের যানবাহন পারাপার শেষ হলে সিগন্যাল ব্যারিয়ার ফেলে অন্যদিকের গাড়ি এবং ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কর্ণফুলী নদীর দুই পারের সংযোগকারী এই ব্যস্ত সেতু থেকে সূর্যাস্তের সময় অসাধারণ দৃশ্যপট প্রত্যক্ষ করা যায়।
পর্যটকদের জন্য কালুরঘাট সেতু প্রাঙ্গণ এক রোমাঞ্চকর স্থান। নদীতীরে বসে শীতল বাতাস উপভোগ করা, পুরনো লোহার কাঠামোর ওপর দিয়ে মন্থর গতিতে পার হওয়া ট্রেনের দৃশ্য দেখা এবং স্থানীয় সাম্পান নৌকায় করে কর্ণফুলী নদীতে ঘুরে বেড়ানোর চমৎকার সুযোগ এখানে রয়েছে।
ভ্রমণের সেরা সময়
- শীত. নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারিতে কর্ণফুলী নদীর পাড়ে ঠান্ডা মিষ্টি বাতাস এবং মনোরম বিকেলের সূর্যাস্ত উপভোগ করার সেরা সময়।
- শরৎ. সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরে পরিষ্কার আকাশের নিচে নদীর পানিতে সাম্পান নৌকায় ভেসে কালুরঘাট সেতুর চমৎকার ছবি তোলা যায়।
- হেমন্ত. অক্টোবরের শেষভাগে নদীর পাড়ের চায়ের দোকানে বসে বিকেলের শান্ত নদী দৃশ্য উপভোগ করা বেশ আরামদায়ক।
- বসন্ত. ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাসে সহনীয় আবহাওয়া থাকে; মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিজড়িত স্থানগুলো ঘোরার জন্য আদর্শ।
বিশেষত্ব
- ১৯৩০ সালে ব্রিটিশ আমলে কর্ণফুলী নদীর ওপর নির্মিত ঐতিহ্যবাহী ইস্পাতের 'রোড-কাম-রেল' সেতু
- ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ঐতিহাসিক স্মৃতিকেন্দ্র
- কর্ণফুলীর ঐতিহ্যবাহী সাম্পান ভ্রমণ এবং নদীর বুকে সূর্যাস্ত দেখার চমৎকার ভিউপয়েন্ট
সতর্কতা
- চলন্ত ট্রেন বা গাড়ি চলাচলের সময় সেতুর মূল রেললাইনের স্লিপারের ওপর পায়ে হেঁটে পারাপার হওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক।
- সেতুটি এক লেনের হওয়ায় দুই পাশেই সিগন্যালের কারণে যানজট ও বিলম্ব হতে পারে; হাতে সময় নিয়ে ভ্রমণ করুন।
- নদীর পাড়ে সাম্পান নৌকায় ওঠার সময় কাদা ও পিচ্ছিল পারঘাট থেকে পা পিছলে যাওয়া থেকে সতর্ক থাকুন।
ভ্রমণের আগে
খরচ ও যোগাযোগের তথ্য সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই ভ্রমণের আগে জেনে নিন। কোনো সেবাদাতার সাথে আর্থিক লেনদেন বা অন্য কোনো বিষয়ের জন্য দৃষ্টি দায়ী থাকবে না।
আবহাওয়া
২৮°
পরিষ্কার আকাশ
অনুভূত হচ্ছে ৩২°
- আর্দ্রতা
- ৭৩%
- বাতাস
- ৬.৩ কিমি/ঘণ্টা
৭ দিনের পূর্বাভাস
- আজ
২৪°৩১°
- রবি
২৪°৩২°
- সোম
২৪°৩১°
- মঙ্গল
২২°২৮°
- বুধ
২০°২৭°
- বৃহস্পতি
২০°২৭°
- শুক্র
২২°২৯°
হালনাগাদ ৭ নভে, ৯:৩০ PM
মানচিত্র















ছবি
কাছাকাছি স্থান
স্বাধীনতা কমপ্লেক্স
চট্টগ্রাম · স্মৃতিস্তম্ভ · ২.৮ কিমি
চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রি
চট্টগ্রাম · ঐতিহ্যবাহী · ৫.৯ কিমি
হযরত বায়োজিদ বোস্তামী দরগাহ
চট্টগ্রাম · ঐতিহ্যবাহী · ৬.৪ কিমি
চেরাগী পাহাড়
চট্টগ্রাম · ঐতিহ্যবাহী · ৬.৫ কিমি
আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ
চট্টগ্রাম · ঐতিহ্যবাহী · ৬.৬ কিমি
নজরুল স্কয়ার (ডিসি হিল)
চট্টগ্রাম · ঐতিহ্যবাহী · ৬.৮ কিমি