মূল অংশে যান

বাংলাদেশ ভ্রমণের প্রস্তুতি

ভিসা, টাকা, সিম কার্ড, যাতায়াত, নিরাপত্তা আর ভ্রমণের সেরা মাস: বিদেশি অতিথিদের জন্য বাংলাদেশ ভ্রমণের প্রয়োজনীয় তথ্য।

সর্বশেষ পর্যালোচনা: নভেম্বর ২০২৬। নিয়ম বদলায়, তাই নিচের সরকারি সূত্র থেকে সবসময় নিশ্চিত হয়ে নিন।

ভিসা

বেশিরভাগ বিদেশি পর্যটকের বাংলাদেশে আসতে ভিসা লাগে। কিছু দেশের নাগরিক পর্যটনের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসা পেতে পারেন; তালিকা ও শর্ত সময়ে সময়ে বদলায়।

নিজ দেশে বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনের মাধ্যমে আবেদন করুন, অথবা বুকিংয়ের আগে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের তথ্য দেখে নিন। পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত ছয় মাস থাকা উচিত।

টাকা

মুদ্রা বাংলাদেশি টাকা (৳)। শহর ও উপজেলা সদরে এটিএম সহজে পাওয়া যায়, বেশিরভাগই আন্তর্জাতিক কার্ড নেয়; বড় হোটেল, রেস্তোরাঁ ও দোকানে কার্ডে পরিশোধ করা যায়।

গ্রামাঞ্চল, স্থানীয় যানবাহন, বাজার ও ছোট খাবারের দোকানের জন্য নগদ টাকা রাখুন। খুচরা নোট সঙ্গে রাখুন।

সিম কার্ড ও ইন্টারনেট

পাসপোর্ট দেখিয়ে বিমানবন্দর বা অপারেটরের দোকান থেকে সিম কেনা যায়; নিবন্ধনে আঙুলের ছাপ লাগে। প্রধান অপারেটর গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক ও টেলিটক।

মোবাইল ডেটা সাশ্রয়ী এবং প্রায় সারা দেশে ফোরজি আছে, তবে পার্বত্য অঞ্চল, সুন্দরবন ও হাওরের কিছু জায়গায় নেটওয়ার্ক দুর্বল। যাওয়ার আগে অফলাইন ম্যাপ নামিয়ে রাখুন।

যাতায়াত

অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, যশোর, রাজশাহী, সৈয়দপুর ও বরিশাল যাওয়া যায়। আন্তঃনগর ট্রেন আরামদায়ক ও সাশ্রয়ী; টিকিট অনলাইনে পাওয়া যায়, ছুটির আগে দ্রুত শেষ হয়ে যায়।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আন্তঃজেলা বাস প্রায় সব জেলায় যায়। ঢাকা থেকে বরিশাল ও দক্ষিণাঞ্চলে রাতের লঞ্চ নিজেই এক অভিজ্ঞতা। শহরে রাইড-শেয়ারিং অ্যাপ সবচেয়ে সহজ।

নিরাপত্তা ও অনুমতি

যাওয়ার আগে নিজ দেশের ভ্রমণ পরামর্শ দেখুন এবং ভ্রমণের সময় স্থানীয় খবর অনুসরণ করুন। সড়কে চলাচলই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি: রাস্তা পার হতে সতর্ক থাকুন, নির্ভরযোগ্য বাস কোম্পানি বেছে নিন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের (বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি) কিছু এলাকায় বিদেশিদের অনুমতি লাগতে পারে, আর কিছু এলাকা হঠাৎ বন্ধ হতে পারে। যাওয়ার আগে ট্যুর অপারেটর বা জেলা প্রশাসনের কাছে জেনে নিন। এপ্রিল–মে ও অক্টোবর–নভেম্বরে উপকূলে ঘূর্ণিঝড় হতে পারে।

রীতিনীতি ও আচরণ

বাংলাদেশ মুসলিম-প্রধান দেশ, অতিথিপরায়ণতার দীর্ঘ ঐতিহ্য আছে। শালীন পোশাক পরুন, বিশেষ করে গ্রামে ও ধর্মীয় স্থানে। মসজিদ, মন্দির ও বাড়িতে ঢোকার আগে জুতা খুলুন।

কারও ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন। রমজানে দিনের বেলা পর্যটন এলাকার বাইরে প্রকাশ্যে খাওয়া-দাওয়া এড়িয়ে চলুন। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি, অনেক অফিস বন্ধ থাকে।

ভ্রমণের সেরা সময়

বেশিরভাগ ভ্রমণের জন্য নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি সেরা: শুকনো, রোদেলা ও ঠান্ডা। মার্চ থেকে মে খুব গরম ও আর্দ্র। জুন থেকে অক্টোবর বর্ষা, তখন প্রকৃতি সবচেয়ে সবুজ ও ঝর্ণা পূর্ণ, তবে ভারী বৃষ্টিতে যাতায়াত ব্যাহত হতে পারে।

কোন ঋতুতে কোন স্থান ভালো, দৃষ্টির ঋতু গাইডে দেখুন।

ঋতু গাইড

কোথা থেকে শুরু করবেন